বর্তমানে যাদের কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন আছে তাদের মোটামুটি সবাই অনলাইনে টাকা উপার্জন করতে চাই। এ জন্য চাই কোন নির্দিষ্ট কাজের উপর দক্ষতা। শুধু দক্ষতা থাকলেই কাজ করা যাবে সেটা ঠিক না, মার্কেট প্লেসে বিড করে কাজ অর্জন করার দক্ষতাও থাকতে হবে। এ জন্য অনেকেই হতাশায় হাল ছেরে দিয়ে থাকেন। অনেকেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকার কারনে পিটিসি এর দিকে পা বাড়ান। তাদের বলব যেটাতে কাজ করবেন সেটা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে নিন।
যাই হোক আজ আমি আপনাদের সাথে বিটকয়েন সম্পর্কে কথা বলব। আমার দেখা প্রতি বিটকয়েন এর মূল্য ৫৮০ ইউএসডি থেকে ৫৯২ ইউএসডি।
এশিয়ায় প্রথম বিটকয়েনে যুক্ত হল বাংলাদেশ বিস্তারিত
বিটকয়েন কি?
বিটকয়েন এর লোগো
বিটকয়েন হল ওপেন সোর্স ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রোটকলের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া সাংকেতিক মুদ্রা। বিটকয়েন লেনদেনের জন্য কোন ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান বা নিকাশ ঘরের প্রয়োজন হয় না। ২০০৮ সালে সাতোশি নাকামোতো এই মুদ্রাব্যবস্থার প্রচলন করেন। তিনি এই মুদ্রাব্যবস্থাকে পিয়ার-টু-পিয়ার লেনদেন নামে অবিহিত করেন। বিটকয়েনের লেনদেনটি বিটকয়েন মাইনার নামে একটি সার্ভার কর্তৃক সুরক্ষিত থাকে। পিয়ার-টু-পিয়ার যোগাযোগ ব্যাবস্থায় যুক্ত থাকা একাধিক কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের মধ্যে বিটকয়েন লেনদেন হলে এর কেন্দ্রীয় সার্ভার ব্যবহারকারীর লেজার হালনাগাদ করে দেয়। একটি লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে নতুন বিটকয়েন উৎপন্ন হয়। ২১৪০ সাল পর্যন্ত নতুন সৃষ্ট বিটকয়েনগুলো প্রত্যেক চার বছর পরপর অর্ধেকে নেমে আসবে। ২১৪০ সালের পর ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন তৈরী হয়ে গেলে আর কোন নতুন বিটকয়েন তৈরী করা হবে না। যেহেতু বিটকয়েনের লেনদেন সম্পন্ন করতে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন পরে না এবং এর লেনদেনের গতিবিধি কোনভাবেই অনুসরণ করা যায় না তাই বিশ্বের বিভিন্ন যায়গায় বিটকয়েন ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বৈধ পণ্য লেনদেন ছাড়াও মাদক চোরাচালান এবং অর্থপাচার কাজেও বিটকয়েনের ব্যাবহার আশংকাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বিটকয়েন ডিজিটাল কারেন্সি হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে এর দর মারাত্মক ওঠানামা, দুষ্প্রাপ্যতা এবং ব্যবসায় এর সীমিত ব্যবহারের কারণে অনেকেই এর সমালোচনা করেন। সম্প্রতি কানাডার ভ্যানক্যুভারে বিটকয়েন এর প্রথম এটিএম মেশিন চালু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এটি বিটকয়েনকে আরও আগিয়ে নিয়ে যাবে। মাদক, চোরাচালান অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও অন্যান্য বেআইনি ব্যাবহার ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডীয় সরকার বিটকয়েনের গ্রাহকদের নিবন্ধনের আওতায় আনার চিন্তাভাবনা করছে।
বিটকয়েনের কার্যপ্রনালীঃ
বিটকয়েনের লেনদেন হয় পিয়ার টু পিয়ার বা গ্রাহক থেকে গ্রাহকের কম্পিউটারে। এটি কোন কেন্দ্রীয় নিকাশঘরের মধ্য দিয়ে যায় না কিংবা এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান নেই। বিটকয়েনের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় অনলাইনে একটি উন্মুক্ত সোর্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে। বিটকয়েন মাইনারের মাধ্যমে যেকেউ বিটকয়েন উৎপন্ন করতে পারে। বিটকয়েন উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াটা সবসময় অনুমানযোগ্য এবং সীমিত। বিটকয়েন উৎপন্ন হওয়ার সাথে সাথে এটি গ্রাহকের ডিজিটাল ওয়ালেটে সংরক্ষিত থাকে। এই সংরক্ষিত বিটকয়েন যদি গ্রাহক কতৃক অন্য কারও একাউন্টে পাঠানো হয় তাহলে এই লেনদেনের জন্য একটি স্বতন্ত্র ইলেক্ট্রনিক সিগনেচার তৈরী হয়ে যায় যা অন্যান্য মাইনার কতৃক নিরীক্ষিত হয় এবং নেটওয়ার্কের মধ্যে গোপন অথচ সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত হয়। একই সাথে গ্রাহকদের বর্তমান লেজার কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে হালনাগাদ হয়।
বিটকয়েন দিয়ে কোন পন্য কেনা হলে তা বিক্রেতার একাউন্টে পাঠানো হয় এবং বিক্রেতা পরবর্তীতে সেই বিটকয়েন দিয়ে পুনরায় পন্য কিনতে পারে, অপরদিকে সমান পরিমাণ বিটকয়েন ক্রেতার লেজার থেকে কমিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যেক চার বছর পর পর বিটকয়েনের মোট সংখ্যা পুনঃনির্ধারন করা হয় যাতে করে বাস্তব মুদ্রার সাথে সামঞ্জস্য রাখা যায়।
কোথায় বিটকয়েন জন্য আইডি করব?
বিটকয়েন এর সংরহের জন্য প্রথমে COINBASE.COM এ আইডি করতে হবে। এখানে আইডি করার পর আপনার মোবাইল ভেরিফিকেসন করতে হবে। আইডি করার পর লগইন করলেই বুঝতে পারবেন অথবা সেটিংস এ পাবেন। এবার সেটিংস থেকে বিটকয়েন অ্যাড্রেস এ ৩২ সংখার আপনার বিটকয়েন অ্যাড্রেস পাবেন। এটা কপি করে টেক্সট ফাইলে সেভ করে রাখুন। এরপর আপনার বিটকয়েন অ্যাড্রেস ব্যাবহার করে MICROWALLET.ORG, COINBOX.ME, BITCHEST.ME এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন সাইটে আইডি করতে হতে পারে। এই ওয়ালেট গুলোতে বিটকয়েন জমা হবে, যা নির্দিষ্ট পরিমান হলে অটোমেটিক আপনার কয়েনবেস ওয়ালেটে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
কয়েনবেস হোম পেজ
বিটকয়েন এড্রেস
কয়েনবক্স হোম পেজ
মাইক্রোওয়ালেট হোম পেজ
বিটচেস্ট হোম পেজ
এশিয়ায় প্রথম বিটকয়েনে যুক্ত হল বাংলাদেশ বিস্তারিত
কিভাবে বিটকয়েন সংগ্রহ করব?
বিটকয়েন সংগ্রহ করার জন্য বিভন্ন সাইট আছে। এসব সাইটের প্রধান এবং একমাত্র কাজ হল ক্যাপচা পুরন করা। আমি কিছু লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি যেখান থেকে ৩০ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা পর পর বেশি সংখ্যক সাতুশি/মাইক্রো বিটকয়েন সংগ্রহ করতে পারবেন। এর জন্য প্রথমে নিচের লিঙ্ক এ জেতে হবে (কপি করে নতুন ট্যাব এ পেস্ট করুন । ব্রাউজার এর এড-ব্লকার অফ রাখুন ) শুধু মাত্র আপনার কয়েনবেস এর সেটিং থেকে প্রাপ্ত এড্রেস টা নির্দিষ্ট বক্স (বিট কয়েন এড্রেস বক্স ) এ পেস্ট করতে হবে আর ক্যাপচা সল্ভ করে সাবমিট করতে হবে ।
এই লিঙ্ক Click Here এ গিয়ে রেজিস্টার করুন । ই-মেইল ভেরিফাই করুন । লগইন করুন । “Surf ads” এ ক্লিক করে এ্যাডস ভিজিট করুন । এড ভিজিট এর কাউন্ট শেষ হলে একটা স্পিপল ক্যাপচা আসবে ওটা স্প্লভ করুন ব্যালেন্স এড হয়ে যাবে । তখন ট্যাব ক্লোজ করে পরবর্তী এড ভিজিট করুন ।
বিটকয়েনের বিনিময়ে টাকা পাবো কিভাবে?
বিটকয়েন বিক্রি করার জন্য আপনাকে ক্রেতা খুঁজতে হবে। যেমনটা পেপাল, স্ক্রিল, মানিবুকারস, পেইযা এর জন্য খুঁজতে হয়। অবশ্য কিছু অনলাইন মানি এক্সচেঞ্জ সাইট আছে যারা বিটকয়েন এর সাথে পেপাল, স্ক্রিল/মানিবুকারস, পেইযা, এগোপে ইত্যাদি বিনিময় করে।
প্রতি মাসে ১ বা ১.৫ বিটকয়েন সংগ্রহ করতে পারলে ৪৫,০০০ থেকে ৬৫,০০০ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। তাহলে আর দেরি কেন? শুরু করে দিন বিট কয়েন সংগ্রহ করা।